ইসলামী জীবন ব্যবস্থা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলামী জীবন ব্যবস্থা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
pdf islami ইসলামের জীবন পদ্ধতি islamer jibon poddhoti

pdf islami ইসলামের জীবন পদ্ধতি islamer jibon poddhoti

book cover ইসলামের জীবন পদ্ধতি
ইসলামের জীবন পদ্ধতি সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী
প্রকাশনীঃ আধুনিক প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ১-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৮
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

মানুষের প্রকৃতিতে চরিত্রের অনুভূতি একটা স্বাভাবিক অনুভূতি। এটা এক প্রকারের গুণ ও কাজকে পসন্দ করে এবং আর এক প্রকারের গুণ ও কাজকে করে অপসন্দ। এ অনুভূতি ব্যক্তিগতভাবে মানুষের মধ্যে কমও হতে পারে, বেশীও হতে পারে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে মানবতার তীব্র চেতনা চরিত্রের কোনো কোনো গুণকে ভাল এবং কোনো কোনো গুণকে মন্দ বলে চিরদিন একইরূপে অভিহিত করেছে। সততা, সুবিচার, ওয়াদাপূর্ণ করা এবং বিশ্বাসপরায়ণতাকে চিরদিন মানব চরিত্রের প্রশংসনীয় গুণ বলে মনে করা হয়েছে। মিথ্যা, যুলুম, প্রতিশ্রুতি ভংগ করা ও বিশ্বাসঘাতকতাকে মানবেতিহাসের কোনো যুগেই পসন্দ করা হয়নি। সহানুভূতি, দয়া, দানশীলতা এবং উদারতাকে চিরদিনই সম্মান করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে স্বার্থপরতা, নিষ্ঠুরতা, কৃপণতা ও সংকীর্ণ দৃষ্টিকে কোনো দিনই মর্যাদা দান করা হয়নি। ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, দৃঢ়তা ও আদর্শ পরায়ণতা এবং বীরত্ব ও উচ্চ আশা চিরদিনই শ্রদ্ধা পাবার উপযুক্ত গুণ হিসেবে গণ্য হয়েছে। পক্ষান্তরে অস্থিরতা, নীচতা, খোশামোদী, হীন মনোবৃত্তি ও কাপুরুষতাকে কোনো দিনই অভিনন্দিত ক করা হয়নি। আত্মসংযম, আত্মসম্মান, জ্ঞান, নিয়মানুবর্তিতা ও অকপট মেলামেশাকে চিরদিনই মানুষের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং প্রবৃত্তির গোলামী, অশালীন আচরণ, সংকীর্ণতা, বে-আদবী ও কুটিল মনোবৃত্তি মানব চরিত্রের বৈশিষ্ট্যের তালিকায় কোনো দিনই স্থান পায়নি। কর্তব্যপরায়ণতা, প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা, কর্মপটুতা এবং দায়িত্ববোধ চিরদিনই সম্মান পেয়ে এসেছে। কিন্তু কর্তব্য সম্পর্কে উদাসীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী ও কর্মবিমুখ মানুষকে কোনোদিনই সুনজরে দেখা হয়নি। এভাবে সমাজ জীবনের ভাল ও মন্দ গুণাবলী সম্পর্কেও মানবতার সিদ্ধান্ত চিরকাল প্রায় একই প্রকারের রয়েছে।

সৎকাজের প্রেরণা

বিশ্ব প্রকৃতি ও মানব সম্পর্কে ইসলামের এ ধারণা মানব হৃদয়ে এমন এক দুর্নিবার আবেগ সৃষ্টি করে যা চারিত্রিক আইন-কানুন পালন করার জন্য মানুষকে নিরন্তর অনুপ্রাণিত করতে থাকে। মানুষ যখন নিজ ইচ্ছাতেই আল্লাহকে আল্লাহ বলে এবং তাঁর দাসত্ব করাকে জীবনের একমাত্র পথ বলে স্বীকার করে আর আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ লাভ করাকেই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে তখনই সে নিজে অন্তরের আবেদনেই আল্লাহ তায়ালার হুকুম-আহকাম ও বিধি-নিষেধগুলো পালন করবে। এই সাথে পরকাল বিশ্বাসও একটা উদ্বোধক শক্তি। কারণ সে নিসন্দেহে বিশ্বাস করে যে, যে ব্যক্তিই আল্লাহ তায়ালার হুকুম-আহকাম অনুসরণ করবে, দুনিয়ার এ অস্থায়ী জীবনে তাকে যতই দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে এবং অভাব-অভিযোগ ও নির্যাতন-নিপীড়নের সম্মুখীন হতে হোক না কেন। পরকালে তার চিরস্থায়ী জীবনে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যত লাভ সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এ দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য হবে, দুনিয়ায় এ সংক্ষিপ্ত জীবনে সে যতই আনন্দ স্ফূর্তি ও আয়েশ-আরাম লাভ করুক না কেন পরকালে তাকে চিরস্থায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে, তাতে সন্দেহ নেই। বস্তুত এ আশা, এ ভয় এবং বিশ্বাস কোনো মানুষের মনে যদি বদ্ধমূল হতে পারে, তবে তার অন্তর্নিহিত এ বিরাট উদ্বোধক শক্তি তাকে এমন সব স্থানে পুণ্যের কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারে যেখানে পুণ্যের পার্থিব ফল মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে এবং এমন সময়ও তাকে পাপ ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখতে পারে, যখন এ পাপের কাজ খুবই লাভজনক ও লোভনীয় হয়ে দাঁড়াবে।

ভাল-মন্দের পরিচয়

এর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য এই যে, এটা শুধু অবাস্তব কল্পনার সাহয্যে কতগুলো আশ্চর্য ধরনের চরিত্রনীতি ঠিক করেনি এবং মানুষের সর্ববাদী সমর্থিত চরিত্রনীতির এক অংশের মূল্য কম এবং অপর অংশের মূল্য বেশী দেখাবার চেষ্টাও এটা করেনি। ইসলাম এমন সব জিনিসকে চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা দুনিয়ার সকল মানুষের দ্বারাই সমর্থিত এবং এর কিছুটা অংশ নিয়েই যথেষ্ট মনে করা হয়নি বরং এর সবটুকুকেই সে নিজের নীতি বলে গ্রহণ করেছে। তারপর একটা পরিপূর্ণ সামঞ্জস্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার সাথে মানুষের জীবনে তার একটা স্থান, একটা মর্যাদা এবং একটা সুস্পষ্ট ব্যবহার ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করেছে। ইসলাম এর ব্যাপক চরিত্রনীতিকে মানব জীবনে এমন সামঞ্জস্যের সাথে প্রযুক্ত করেছে যে, ব্যক্তিগত কাজ-কারবার, পারিবারিক সম্পর্ক, নাগরিক জীবন, আভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থনৈতিক আদান-প্রদান, ইসলামের জীবন পদ্ধতি

আরও বই ডাউনলোড করুন
আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও ইসলাম - মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান pdf ডাউনলোড
কুরআন হাদীসের আলোকে মরণ ব্যাধি দূর্নীতি pdf ডাউনলোড
আপনাদের প্রশ্নের জবাব ১-৩ খন্ড পিডিএফ বই ডাউনলোড ডাউনলোড

বাজার-বন্দর-শিক্ষাগার, আদালত ফৌজদারী, পুলিশ লাইন, সেনানিবাস, যুদ্ধের ময়দান, স্বস্তি পরিষদ- মোটকথা মানব জীবনের প্রত্যেকটি দিক ও বিভাগের উপর ইসলামের ব্যাপক চরিত্রনীতির সুস্পষ্ট প্রভাব বর্তমান। মানব জীবনের প্রত্যেকটি দিক ও বিভাগের উপর ইসলাম স্বীয় চরিত্রনীতিকেই একমাত্র 'শাসক' নিযুক্ত করেছে এবং জীবনের যাবতীয় কাজ-কারবারের চাবিকাঠি প্রবৃত্তি, স্বার্থবাদ এবং সুবিধাবাদের পরিবর্তে, চরিত্রের হাতে ন্যস্ত করাই ইসলামের ঐকান্তিক চেষ্টা।

ইসলামের সমাজব্যবস্থা

দুনিয়ার সমস্ত মানুষ একই বংশোদ্ভূত"-এ মতের উপরই ইসলামী সমাজব্যবস্থার বুনিয়াদ স্থাপিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম একজোড়া মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তারপরে সেই জোড়া হতে দুনিয়ার সকল মানুষের জন্ম হয়েছে। প্রথম দিক দিয়ে একজোড়া মানুষের সন্তানগণ দীর্ঘকাল পর্যন্ত একই দল ও একই সমাজের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের জীবনযাপনের পদ্ধতি একই প্রকারের ছিল; তাদের ভাষাও ছিল এক। কোনো প্রকার বিরোধ-বৈষম্য তাদের মধ্যে ছিল না। কিন্তু তাদের সংখ্যা যতই বৃদ্ধি পেতে লাগল ততই তারা পৃথিবীর নানাদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল এবং এ বিস্তৃতির ফলে তারা অতি স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন বংশ, জাতি ও গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ল। তাদের ভাষা বিভিন্ন হয়ে গেল, পোশাক-পরিচ্ছেদের দিক দিয়ে অনেক বৈষম্য ও বৈচিত্র দেখা দিল।

দৈনন্দিন জীবনযাপনের রীতিনীতিও আলাদা হয়ে গেল এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন আবহাওয়ায় তাদের রং, রূপ ও আকার-আকৃতি পর্যন্ত বদলিয়ে গেল। এসব পার্থক্য একেবারেই স্বাভাবিক, বাস্তব দুনিয়ায়ই এটা বর্তমান। কাজেই ইসলামও এসবকে ঠিক একটা বাস্তব ঘটনা হিসেবেই গ্রহণ করেছে। ইসলাম এসবকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেবার পক্ষপাতি নয়, বরং এসবের দ্বারা মানব সমাজে পারস্পরিক পরিচয় লাভ করা যায় বলে ইসলাম এগুলোকে স্বীকার করে নিয়েছে। কিন্তু পার্থক্য-বৈষম্যের উপর ভিত্তি করে মানব সমাজে বর্ণ, বংশ, ভাষা, জাতীয়তা এবং স্বাদেশীকতার যে হিংসা-দ্বেষ উদ্বেলিত হয়ে উঠেছে, ইসলাম তা কিছুতেই সমর্থন করতে পারে না, এর দৃষ্টিতে এটা সম্পূর্ণরূপেই ভুল। মানুষ এবং মানুষের মধ্যে শুধু জন্মের ভিত্তিতে উচ্চ-নীচ, আশরাফ-আতরাফ এবং আপন-পরের যে পার্থক্য করা হয়েছে, ইসলামের দৃষ্টিতে তা একেবারেই জাহেলিয়াত, একেবারেই মূর্খতাব্যঞ্জক। ইসলাম সমস্ত দুনিয়ার মানুষকে সম্বোধন করে বলে যে, তোমরা সকলেই এক মাতা ও এক পিতার সন্তান, তোমরা পরস্পর ভাই ভাই এবং মানুষ হওয়ার দিক দিয়ে তোমরা সকলেই সমান।

 pdf book ইসলামের জীবন চিত্র islamer jibon chitro

pdf book ইসলামের জীবন চিত্র islamer jibon chitro

ইসলামের জীবন চিত্র
ইসলামের জীবন চিত্র নসরুল্লাহ খান আযীয
প্রকাশনীঃ প্রবাল প্রকাশন লিঃ
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১০৬
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

মুমিন ব্যক্তি প্রতিটি কাজই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে করে থাকে। সাফল্য অর্জ'ন করলে সে জন্যে গর্ব করা এবং এ সফলতাকে নিজ চেষ্টা সাধনার ফল মনে করার পরিবর্তে আল্লাহ বারী তায়ালার দরবারে নত হয়ে শুকরিয়। জ্ঞাপন করে।

ইয়ারমুকের যুদ্ধ ইসলামী জেহাদের ইতিহাসে উজ্জল স্থান অধিকার করে আছে। রোমান বাহিনী বিরাট জৌলুস ও শান-শওকতের সাথে ময়দানে হাযির হয়। অপর পক্ষে ত্রিশ হাজার জানবাজ মুজাহিদ বিজয় অথবা শাহাদাতের শপথ নিয়ে পায়ে বেড়ী পরে ময়দানে জংএ হাযির হন, যাতে ময়দান থেকে ভেগে যাবার চিন্তাও মনে না আসে।

হাজার হাজার পাদ্রী আর বিশপ ক্রুশচিহ্ন হাতে নিয়ে ময়দানে হাযির হয়ে যায়। তার। হযরত ঈসা (আঃ) এর নাম নিয়ে সৈন্যদের উৎসাহ দিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তুমুল যুদ্ধের পর সুসজ্জিত বিরাট রোমান বাহিনী মুজাহিদদের ঈমানী শক্তির মুকাবিলায় ময়দানে টিকে থাকতে পারেনি। সবই বেকার প্রমাণিত হলো। মুজাহিদদের খোদার প্রতি অবিচল আস্থা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা রোমান বাহিনীর পায়ের নীচের মাটি সরিয়ে দেয়। যুদ্ধে প্রায় এক লাখ রোমান সৈন্য নিহত হয়। এ বিরাট বিজয়ের সংবাদ আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর ফারুকের কানে পৌঁছলে তিনি সিজদায় পড়ে আল্লার শুকরিয়। আদায় করেন।

খতমে নবুওয়াত

হযরত উমার ইবনে আবদুল আযীয (রাঃ) খেলাফত লাভের পর সর্বপ্রথম যে কাজ করলেন, তা হচ্ছে তিনি জনগণকে একত্রিত করে এক ভাষণ দিলেন। ভাষণে তিনি বললেন-"আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে খেলাফতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমার হাতে বায়াত করার বাধ্যবাধকতা আমি তোমাদের উপর থেকে প্রত্যাহার করলাম। আমি তোমাদের এ অধিকার দিচ্ছি যে, তোমর। যাকে ইচ্ছা খলীফা নির্বাচিত করে নাও।" কিন্তু উপস্থিত জনত। সমস্বরে বলে উঠলো: আমরা আপনাকেই খলীফা নির্বাচিত করলাম। আপনি আল্লার নাম নিয়ে খেলাফতের কাজ আঞ্জাম দিতে শুরু করুন।" ইসলামের জীবন চিত্র

আরও বই ডাউনলোড করুন
কুরআন হাদিসের আলোকে শহীদ কারা pdf ডাউনলোড
ইসলাম মানবতার ধর্ম bangla book pdf ডাউনলোড
মন্তব্য সম্বলিত বাইবেল ও কুরআনের আলোকে ডাউনলোড

জনগণ সর্বসম্মতভাবে তাঁকে খলীফা নির্বাচিত করার পর তিনি এক দীর্ঘ' ভাষণ দিলেন। ভাষণে তিনি আমীরের আনুগত্য এবং আনুগত্যের দায়িত্ব ও কর্তব্যের উপর আলোকপাত করেন। হামদ ও না'আতের পর তিনি বলেনঃ তোমাদের নবীর পরে আর কোনে। নবী নেই। তাঁর প্রতি যে কিতাব নাষিল হয়েছে, তার পরে আর কোনো কিতাব নাযিল হবেনা। আল্লাহ য। কিছ, হালাল করে দিয়েছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত হালাল থাকবে আর যা কিছ, হারাম করে দিয়েছেন, তাও কিয়ামত পর্যন্ত হারাম থাকবে। আমি নিজের পক্ষ থেকে কোনো ফায়সালা দানের অধিকারী নই। আমি একজন অনুসরণকারী মাত্র। এ অধিকার কারে। নেই যে, সে খোদার নাফরমানী করবে আর তার অনুগত্য করা হবে। আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি নই। সকলের মতই একজন সাধারণ মানুষ। পার্থক্য এতটুকু যে, তোমাদের সকলের তুলনায় ভারী বোঝা আমার ঘাড়ে চাপানো হয়েছে।

নৈতিক চরিত্র ও পারস্পরিক সম্পর্ক

মুসলমান ব্যক্তি যখন কোনো নেক কাজ করে, তা করে শুধ, আল্লার সন্তোষ অর্জনের জন্যে। আমের ইবনে আবদুল্লাহ গাবারী একযুদ্ধে শরীক হন। আল্লাহ তায়ালা সে যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় দান করেন। যুদ্ধে একজন মশহর দুশমনের কন্য। মুসলমানদের হস্তগত হয়। লোকের। মেয়েটির রূপ-সৌন্দর্য ও গুণাগুণ বর্ণনা করলো। প্রশংসা শুনে আমের বললেনঃ "আমিও তো একজন পুরুষ, মেয়েটি আমাকে দিয়ে দাও।" তাঁর দুনিয়া-বিমুখতা ও খোদাভীতির কারণে লোকের। তাঁর এ অস্বাভাবিক আগ্রহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে মেয়েটি তাঁকেই দিয়ে দিলেন। মেয়েটি হস্তগত হবার পর তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: "আল্লার ওয়াস্তে আমি তোমাকে আযাদ করে দিলাম।" ব্যাপারটি জানতে পেরে লোকেরা বললো: এমন একটি সুন্দরী রূপসীকে আপনি আযাদ করে দিলেন! এর পরিবর্তে অন্য কোনে। দাসীও তো আযাদ করতে পারতেন।"

আল্লার উপর তাওয়াক্কুল

মৃত্যুর পূর্বক্ষণে হযরত উমার ইবনে আবদুল আযীযকে মুসলিমা আরয করলেন:
"আমীরুল মুমিনীন! আপনি আপনার সন্তানদের ধনসম্পদ থেকে বঞ্চিত রেখেছেন আর এমন অবস্থায় এখন তাদের ফেলে যাচ্ছেন যে, তাদের নিকট কিছুই নেই। কতইনা ভালো হতো, আপনার সন্তানদের প্রতি লক্ষ্য রাখার জন্যে যদি আমাকে বা অন্য কাউকেও অসীয়ত করে যেতেন।"
"আমাকে হেলান দিয়ে বসাও।" অত্যন্ত দুর্বল আওয়াযে হযরত উমার ইবনে আবদুল আযীয বললেন।

হেলান দিয়ে বসান হলে পরে তিনি বললেন:
"মুসলিমা! তুমি বলছে। আমি আমার সন্তানদের ধনসম্পদ থেকে বঞ্চিত রেখেছি। খোদার শপথ! আমি তাদের কোনো হক বা অধিকার নষ্ট করিনি। অবশ্য যে সম্পদে তাদের কোন অধিকার ছিলন। তা আমি তাদের দেইনি। অতঃপর তুমি বলেছো, আমি তোমাকে বা খান্দানের অন্য কাউকেও অসীয়ত করে যেতে। তবে শোনো! এ ব্যাপারে আমার অসী ও অভিভাবক এবং কর্মকর্তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা, যিনি নেক্কারদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। আমার সন্তানরা যদি খোদাকে ভয় করে, তবে খোদ। অবশ্যই তাদের জন্যে কোনো পথ তৈরী করে দেবেন। আর তারা যদি গুণাহে নিমজ্জিত হয়, তবে আমি তাদেরকে গুণাহের কাজে আরো শক্তিশালী করে যাবো না।

pdf ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা  islami songskritir mormokotha - আবুল আলা মওদূদী

pdf ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা islami songskritir mormokotha - আবুল আলা মওদূদী

book cover islami dhorshon
ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী
প্রকাশনীঃ আধুনিক প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ৪-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৬৮
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

এখন অতি সুন্দরভাবে উপলব্ধি করা যেতে পারে যে, প্রকৃতপক্ষে সমস্ত মতবাদের মধ্যে ইসলামী মতবাদই হচ্ছে প্রকৃতি ও বাস্তব সত্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল। একমাত্র এই মতবাদেই দুনিয়া এবং মানুষের মধ্যে এক নির্ভুল সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। এর ভেতরেই আমরা দেখতে পাই: দুনিয়া কোন ঘৃণ্য বা বর্জনীয় জিনিস নয়, অথবা মানুষ এর প্রতি আসক্ত হবে এবং এর আনন্দ উপকরণের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে, এ এমন কোন জিনিসও নয়। এখানে না পুরোপুরি গঠন ক্রিয়া চলছে, আর না চলছে এক তরফা বিপর্যয়। একে পরিহার করা যেমন সংগত নয়, তেমনি এর ভেতরে পুরোপুরি ডুবে থাকাও সমীচীন নয়। না সে পুরোপুরি পংকিল ও অপবিত্র, আর না তার সবটাই পবিত্র ও পংকিলতা মুক্ত। এই দুনিয়ার সাথে মানুষের সম্পর্ক আপন রাজত্বের সাথে কোন বাদশাহর সম্পর্কের মতোও নয়। কিংবা জেলখানার সাথে কয়েদীর যে সম্পর্ক সেরূপ সম্পর্কও নয়।

ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা

দুনিয়ার যে কোন শক্তিই তার সেজদার উপযোগী হবে অথবা সে এতখানি শক্তিধর ও ক্ষমতাবানও নয় যে দুনিয়ার প্রতিটি জিনিসের কাছ থেকেই সে সেজদা লাভ করবে। না সে এতটা অক্ষম ও অসহায় যে, তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অভিপ্রায়ের কোন মূল্যই নেই, আর না সে এতখানি শক্তিমান যে, তার ইচ্ছা প্রবৃত্তিই সবকিছুর উর্ধে। সে যেমন বিশ্বপ্রকৃতির একচ্ছত্র সম্রাট নয়, তেমনি কোটি কোটি মনিবের অসহায় গোলামও নয়। এই চরম প্রান্তগুলোরই মধ্যবর্তী এক অবস্থায় তার প্রকৃত স্থান।

ইসলামী জীবন ব্যবস্থার আকর্ষিক শক্তি-পূর্বে যেমন বলা হয়েছে যে, দ্বীন ইসলামের গোটা ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র ও ভিত্তি হচ্ছে আল্লাহর সত্তা। এর গোটা ব্যবস্থাপনাই ঐ কেন্দ্রের চারদিকে আবর্তন করছে। এই ব্যবস্থাপনায় যাকিছু রয়েছে-তা মনন ও প্রত্যয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক আর পূজা-উপাসনা ও ইবাদাত-বন্দেগীর সাথে সম্পৃক্ত হোক অথবা তা দুনিয়াবী জীবনের কোন কারবারই হোক- তার প্রতিটি জিনিসেরই গতি ঐ কেন্দ্রীয় সত্তার দিকেই নিবদ্ধ এবং প্রতিটি জিনিসই তার আকর্ষণ শক্তির প্রচণ্ড তারের সাথে সংযুক্ত হয়ে আছে। খোদ দ্বীন (আনুগত্য) ও ইসলাম (আত্মসমর্পণ) শব্দ দু'টি-যার থেকে এই ধর্মীয় ব্যবস্থাপনাটি উদ্ভাবিত হয়েছে-তার এই প্রকৃতি ও নিগূঢ় তত্ত্বকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে প্রতিপন্ন করে। দ্বীন ও ইসলাম শব্দের মানেই হচ্ছে এই যে, বান্দাহ তার আল্লাহর সন্তুষ্টির সামনে মাথা নত করে দিবে এবং তাঁরই ইচ্ছার অনুগত হবে।
وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِّمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ (النساء : ١٢٥)
"যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে মাথা নত করে দিয়েছে এবং সে সৎকর্মশীলও তার চেয়ে উত্তম দ্বীন আর কার হবে।" (সূরা আন নিসা: ১২৫)
وَمَنْ يُسْلِمُ وَجْهَةٌ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى
"যে ব্যক্তি আপন মুখমণ্ডল আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয় এবং সেই সঙ্গে সে সৎকর্মশীলও হয়, সে তো অত্যন্ত মযবুত রজ্জু আকড়ে ধরলো।"
-(সূরা লোকমান: ২২)

আরও বই ডাউনলোড করুন
দুই সুলতান - জামান সাদী পিডিএফ ই-বুক ডাউনলোড ডাউনলোড
কুরআন মহাবিশ্ব মহাধ্বংস - মুহাম্মদ আনওয়ার হুসাইন পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড
কুরআন কোয়াসার শিঙ্গায় ফুৎকার ডাউনলোড

মৌলিক আকীদা ও চিন্তাধারা

ঈমানের বাৎপর্য ও গুরুত্ব

জীবন দর্শন ও জীবন লক্ষ্যের পর এবার আমাদের সামনে তৃতীয় প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়। তা হচ্ছে এই যে, ইসলাম কোন্ ভিত্তির ওপর মানব চরিত্রের পুনর্গঠন করে?
মানুষের সকল কাজ-কর্ম ও ক্রিয়া-কাণ্ডের উৎস হচ্ছে তার মন। কর্ম-কাণ্ডের উৎস হিসেবে মনের দু'টি অবস্থা রয়েছে। একটি অবস্থা হচ্ছে এই যে, তাতে কোন বিশেষ ধরনের চিন্তাধারা বদ্ধমূল হবে না, নানারূপ বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত চিন্তাধারা প্রবিষ্ট হতে থাকবে এবং তার মধ্যে যে চিন্তাটি বেশী শক্তিশালী, সেটিই হবে কাজের প্রেরণাদানকারী। আর দ্বিতীয় অবস্থাটি হচ্ছে এই যে, তা বিক্ষিপ্ত চিন্তাধারার বিচরণক্ষেত্র থাকবে না, বরং তার ভেতরে কতিপয় বিশিষ্ট চিন্তাধারা এমনভাবে দৃঢ়মূল হবে যে, তার গোটা বাস্তব জীবন স্থায়ীভাবে তারই প্রভাবাধীন হবে এবং তার দ্বারা বিক্ষিপ্ত ক্রিয়া-কাণ্ড অনুষ্ঠিত হবার পরিবর্তে সুবিন্যস্ত ও সুসংহত কর্ম-কাণ্ড সম্পাদিত হতে থাকবে।

প্রথম অবস্থাটিকে একটি রাজপথের সাথে তুলনা করা যেতে পারে; প্রত্যেক যাতায়াতকারীর জন্যেই সে পথটি অবাধ, উন্মুক্ত। তাতে কারো কোন বিশিষ্টতা নেই। দ্বিতীয় অবস্থাটি হচ্ছে একটি ছাঁচের মতো; এর ভেতর থেকে হামেশাই একটি নির্দিষ্ট রূপ ও আকৃতির জিনিস ঢালাই হয়ে বেরোয়। মানুষের মন যখন প্রথম অবস্থায় থাকে, তখন আমরা বলি যে, তার কোন চরিত্র নেই। সে শয়তানও হতে পারে, আবার ফেরেশতাও হতে পারে। তার প্রকৃতিতে রয়েছে বহুরূপী স্বভাব। তার দ্বারা কখন কী ধরনের কর্ম-কাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়, কোন নিশ্চয়তা নেই। পক্ষান্তরে সে যদি দ্বিতীয় অবস্থায় আসে তো আমরা বলে থাকি যে, তার একটি নিজস্ব চরিত্র আছে। তার বাস্তব জীবনে একটি নিয়ম-শৃংখলা, একটি ধারাবাহিকতা আছে। পরন্তু সে কোন্ অবস্থায় কি কাজ করবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যেতে পারে।

মজবুত ঈমানের বিষয়

কুরআন মজিদে ঈমানের বিষয় সম্বন্ধে এতো বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তার ভেতর কোন মতভেদের অবকাশ নেই। কিন্তু যারা কুরআনের বাকরীতি অনুধাবন করতে পারেনি, অথবা তার বক্তব্য বিষয় অনুসরণ করতে সক্ষম হয়নি, তাদের মধ্যে কিছুটা ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। কুরআনের বাকরীতি হচ্ছে এই যে, কোথাও সে গোটা প্রত্যয়কে একই সঙ্গে বিবৃত করেছে, আবার কোথাও সময় ও সুযোগ অনুযায়ী তার কোন কোন অংশ বিবৃত করে তারই ওপর গুরুত্ব প্রদান করেছে। এর থেকে কোন কোন লোক এ ধারণা করে বসেছে যে, ইসলামের প্রত্যয়কে বিশিষ্ট ও বিভক্ত করা যেতে পারে। অর্থাৎ তার ভেতর থেকে কোন একটি কিংবা কোন কোনটির প্রতি ঈমান পোষণই যথেষ্ট আর কোন কোনটি অস্বীকার করেও মানুষ কল্যাণ লাভ করতে পারে। অথচ কুরআনের চূড়ান্ত ফায়সালা এই যে, প্রত্যয় হিসেবে যতগুলো বিষয়কে সে পেশ করেছে, তার সবকিছুই স্বীকার করা আবশ্যক। তার একটি থেকে অপরটিকে কিছুতেই পৃথক করা চলে না। তার সবগুলো মিলে একটি অখণ্ড ও অবিভক্ত সত্তায় পরিণত হয় এবং তাকে সামগ্রিকভাবে মেনে নেয়াই কর্তব্য। তার কোন একটিকেও যদি অস্বীকার করা হয় তাহলে সে অস্বীকৃতি বাকী সবগুলোর স্বীকৃতিকে নাকচ করে দেবে।

pdf ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা islami rastro babostha totto o proyog

pdf ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা islami rastro babostha totto o proyog

ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা তত্ত্ব ও প্রয়োগ
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা তত্ত্ব ও প্রয়োগ ইউসুফ আল কারযাভী
প্রকাশনীঃ ইসলামিক থ্যাট
বইয়ের সাইজঃ ৫-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৩০০
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

অসহায় ও দুর্বলের আশ্রয়স্থল ইসলামি রাষ্ট্র

সবলের স্বার্থ নয়; বরং দুর্বলের অধিকার সংরক্ষণই ইসলামি রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাই ইসলামি রাষ্ট্র সম্পদশালীদের থেকে যাকাত সংগ্রহ করে গরিব দুস্থদের মাঝে তা বিতরণ করে থাকে। এমনিভাবে রাষ্ট্রের অন্যান্য রাজস্ব থেকেও এতিম, অনাথ ও সম্বলহারা মুসাফিরের জন্য ইসলামি রাষ্ট্রে সহযোগিতার অংশ নির্ধারিত থাকে, 'যাতে ধন-সম্পদ মুষ্টিমেয় কয়েকটি হাতে সীমাবদ্ধ না হয়ে পড়ে'
(সূরা হাশর, ৫৯: ৭)।

ইসলামের প্রথম খলিফা তার ভাষণে বলেন: 'জেনে রেখো! তোমাদের মধ্যে সবল ব্যক্তি আমার কাছে দুর্বল যতক্ষণ না তার থেকে অপরের অধিকার আদায় করতে পারি, এবং তোমাদের মধ্যে দুর্বল ব্যক্তি আমার কাছে সবল যতক্ষণ না তার প্রাপ্ত অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারি'। ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা: তত্ত্ব ও প্রয়োগ

ইসলামি রাষ্ট্র অসহায় মজলুমদের রাষ্ট্র। শক্তিশালী ও বলবানদের বিষাক্ত থাবায় যারা আক্রান্ত ও জালেমদের পায়ের তলায় যারা পিষ্ঠ এবং তাদের ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার দাপটের সামনে যারা অসহায়ভাবে জীবনাপাত করছে, এ সকল মজলুমকে জুলুম-অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ দেয়ার জন্যই ইসলামি রাষ্ট্র এদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত।

'তোমাদের কি হয়েছে' কেন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করছ না; অথচ মজলুম অসহায় নারী পুরুষেরা চিৎকার দিয়ে বলছে: হে প্রভু! আমাদেরকে এ অত্যাচারী জনপদ থেকে বের করে নাও, আমাদের জন্য তোমাদের পক্ষ থেকে একজন বন্ধু ও একজন সাহায্যকারী তৈরি করে দাও” (সুরা নিসা, ৪: ৭৫)।

চারিত্রিক ও আদর্শিক রাষ্ট্র

ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে নৈতিক ও আদর্শিক রাষ্ট্র যা সঠিক নিয়ম-নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাষ্ট্রীয় নিয়ম-নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে এটি আপোষহীন। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক, শত্রু ও মিত্র এবং যুদ্ধাবস্থা ও স্বাভাবিক অবস্থা ইত্যাদি যে কোনো পরিস্থিতিতে এই রাষ্ট্র তার মূলনীতি হারিয়ে ফেলে না। ইসলামি রাষ্ট্র কখনো দু'মুখো নীতি পোষণ করে না এবং দু'ধরনের ভাষায় কথা বলে না। ইসলামি রাষ্ট্রে অন্যায়ের পথ ধরে ন্যায় খুঁজে বেড়ানো এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে কাঙ্ক্ষিত স্বার্থ হাসিল করা গ্রহণযোগ্য নয়। এও রাষ্ট্র ন্যায় ও মহৎ লক্ষ্য অর্জনের বিশ্বাসী, পাশাপাশি সৎ ও সঠিক উপায় অবলম্বনেও আপোষহীন।

ইসলামের মহান নবি সা. তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মহান ও পবিত্র। তিনি অপবিত্র বস্তু গ্রহণ করেন না"। এখানে অপবিত্র বলতে বুঝানো হয়েছে: সুদ-ঘুষ ইত্যাদি হারাম ও অবৈধ উপায়ে আহরিত সম্পদ যা ভালো ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা হয়। ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে সৎ ও উত্তম চরিত্রের সাক্ষাত প্রতিবিম্ব যা ঘোলকলায় পূর্ণ করার মিশন নিয়ে মহানবি সা. প্রেরিত হয়েছিলেন। এটি পুরো মানবতার জন্য উপহার স্বরূপ। আল্লাহর এ জমিনে তাঁর আদল-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে যার একমাত্র মিশন যা সাদা-কালো, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবার জন্য সমান।

ইসলামি রাষ্ট্রের প্রকৃতি

ইতঃপূর্বে আমরা 'ইসলামি রাষ্ট্রের অবকাঠামো' শিরোনামে উল্লেখ করেছি যে ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে ইসলামি মূলনীতিতে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসামরিক (সিভিল) রাষ্ট্র। এটি পাশ্চাত্য ইতিহাসের অতি পরিচালিত সেই ধর্মীয় পুরোহিত রাষ্ট্রতুল্য নয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও গীর্জার মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ চলে আসছিল, অবশেষে বিপ্লবের মাধ্যমে তার পরিসমাপ্তি ঘটে এবং চতুর্দিক থেকে আওয়াজ উঠতে থাকে: সর্বশেষ পাদ্রির নাড়িভূড়ির সাথে তাদের সর্বশেষ রাজত্বকেও দাফন করে দাও"।

কিন্তু সেক্যুলারিজমের তল্পিবাহক আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রীতিমতো অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে যে, ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে ঐ ধর্মীয় পুরোহিত রাষ্ট্র যেখানে খোদায়ী শাসনের নামে এক বিরাট জগদ্দল পাথর জনগণের ওপর চেপে বসবে। সেক্যুলারিজমের জয়গান গেয়ে ড. ফারাজ ফাউদাহ "ধ্বংস পূর্ব পরিস্থিতি )قبل السقوط(" নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসলামি জীবন ব্যবস্থা এবং ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে রীতিমতো আক্রমণ চালানো হয়েছে। এর প্রতিউত্তর হিসেবে সাহিত্যিক বন্ধুবর অধ্যাপক আবদুর মজীদ সুবহ্ (আল্লাহ তার হেফাজত করুন) যা লিখেছেন তাই যথেষ্ট মনে করি। কিন্তু আমি এখানে সেক্যুলারিজমের সমর্থনে লিখিত লেখকের কিছু কথা উল্লেখ করার প্রয়াস পাচ্ছি

ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য  islami onusthan er tatporjo - মওদূদী  pdf

ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য islami onusthan er tatporjo - মওদূদী pdf

ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য
ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী
প্রকাশনীঃ আধুনিক প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৯৬
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

আমরা মুসলমানগণ হযরত মুহাম্মাদ (স)-কে 'সরওয়ারে আলম' বলে থাকি, সাদামাটা কথায় এর অর্থ হলো 'বিশ্বনেতা'। হিন্দি ভাষায় এর তরজমা হলো 'জগত গুরু'। ইংরেজীতে বলে (Leader of the world)। দৃশ্যত এটা একটা বড় খেতাব। কিন্তু যে মহাসম্মানিত ব্যক্তিকে এ খেতাব দেয়া হয়েছে তাঁর জীবনের কার্যাবলী বাস্তবিকই এমন যে, তাঁকে বিশ্বনেতা বলা অতিশয় উক্তি নয় বরং এটাই তাঁর ন্যায্য পাওনা।

দেখুন, কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বনেতা বলার জন্য প্রথম শর্ত হওয়া উচিত, তিনি কোনো বিশেষ জাতি কিংবা বংশ অথবা শ্রেণীর কল্যাণের জন্য নয় বরং বিশ্বমানবতার কল্যাণের জন্য কাজ করবেন। আপনি একজন দেশপ্রেমিক অথবা জাতীয়তাবাদী নেতার এ কারণে যত ইচ্ছা প্রশংসা করুন যে, তিনি তাঁর জনগণের যথেষ্ট সেবা করেছেন। কিন্তু আপনি যদি তাঁর স্বদেশবাসী বা স্বজাতির লোক না হন, তাহলে তিনি কোনো অবস্থাতেই আপনার নেতা হতে পারেন না। যে ব্যক্তির শুভেচ্ছা, ভালবাসা ও কল্যাণকামিতা এবং যাবতীয় কর্মকাণ্ড চীন বা স্পেনের জন্য সীমাবদ্ধ, একজন ভারতবাসী কি কারণে তাঁকে তাদের নেতা বলে মানবে? বরং তিনি যদি নিজের জাতিকে অপর জাতি হতে শ্রেষ্ঠ মনে করেন এবং সে জাতিকে পদানত করে নিজের জাতিকে উপরে উঠাতে চান, তাহলে তো অন্য জাতি তাকে নেতা মানা দূরের কথা, উল্টো তাকে ঘৃণা করতে বাধ্য হবে। বিশ্বের সকল জাতির মানুষ কোনো এক ব্যক্তিকে তাদের নেতা শুধু তখনই স্বীকার করে নিতে পারে, যখন সে নেতার দৃষ্টিতে সকল জাতি ও সকল মানুষ হবে সমান। তিনি সমভাবে সকলের শুভাকাঙ্ক্ষী কল্যাণ কামনার দিক থেকে কোনো অবস্থাতেই একজনকে আরেকজনের উপর অগ্রাধিকার দিবেন না। ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য

বিশ্বনেতার প্রকৃত অবদান

বিশ্ববাসী জানেন, বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (স) মানবতার সেই মহান ব্যক্তিগণের অন্তর্ভুক্ত, যারা প্রাচীনকাল হতে মানবজাতিকে আল্লাহর ইবাদাত ও নৈতিক চরিত্রের শিক্ষা দেবার জন্য দুনিয়ায় আবির্ভূত হয়েছেন। এক আল্লাহর বন্দেগী এবং পবিত্র নৈতিক জীবনের শিক্ষা, যা সবসময় দুনিয়ার নবী-রাসূল কৃষি ও মুনিগণ দিচ্ছিলেন, সেই শিক্ষা নবী মুহাম্মাদ (স) দিয়েছেন। তিনি কোনো নতুন রবের ধারণা পেশ করেননি এবং অন্য কোনো দুর্লভ চরিত্রেরও সবক দেননি, যা তাঁর পূর্বেকার মানবতার পথ প্রদর্শকদের শিক্ষা হতে ভিন্ন ছিলো, যার কারণে আমরা তাঁকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিত্ব বলে থাকি।

এ প্রশ্নের উত্তর হলো, নিশ্চয় মহানবী (স)-এর আগের লোকেরা আল্লাহর সত্তা ও তাঁর একত্ব সম্পর্কে অবহিত ছিলো। কিন্তু একথা পরিপূর্ণভাবে অবহিত ছিলো না যে, এ দার্শনিক সত্যের মানুষের নৈতিকতার সাথে কি সম্পর্ক রয়েছে। নিসন্দেহে মানুষ নৈতিকতার উত্তম নীতিমালা সম্পর্কে অবহিত ছিলো। কিন্তু সুস্পষ্টভাবে তাদের জানা ছিলো না যে, জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগে এই নৈতিক নীতিমালার বাস্তব অনুশীলন কিভাবে হওয়া উচিত। আল্লাহর উপর ঈমান, নৈতিক নীতিমালা ও কর্মময় জীবন এ তিনটি ছিলো পৃথক পৃথক জিনিস যেগুলোর মধ্যে যৌক্তিক সম্পর্ক এবং কোনো গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র বিদ্যমান ছিলো না। কেবল মুহাম্মাদ (স) সর্বপ্রথম এ তিনটিকে একত্রে যুক্ত করে একটি ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এগুলোর এই মিশ্রণের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ সভ্যতা ও সংস্কৃতির রূপ শুধু কল্পনার জগতে নয়, বরং কর্মের জগতেও কায়েম করে দেখিয়ে দেন।

মে'রাজের পয়গাম

ইসলামের ইতিহাসে দুটি রাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি হলো, যে রাতে বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপর কুরআন মজীদ নাযিল করা শুরু হয়েছিলো। আর দ্বিতীয়টি হলো, যে রাতে মহানবী (স)-এর মে'রাজের সৌভাগ্য হয়েছিলো। প্রথম রাতের গুরুত্বতো সকলেরই জানা যে, মানবজাতির পথপ্রদর্শনের জন্য ঐ রাতে হেদায়াতের সেই আলোকরশ্মি পাঠানো হয়েছিলো, যা বাতিলের অন্ধকারের মধ্যে শত শত বছর পর্যন্ত সত্যের আলো ছড়িয়ে আসছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত ছড়াতে থাকবে। কিন্তু দ্বিতীয় রাতের গুরুত্ব কিছু ধর্মীয় আলোচনার মধ্যে হারিয়ে গেছে। খুব অল্পসংখ্যক লোকই জানেন যে, ঐ রাতে মানব সমাজ গঠনের কত বড় কাজ আঞ্জাম দেয়া হয়েছে। আজ এ পবিত্র রাতটির স্মৃতি তাজা করতে গিয়ে আমাদের দেখতে হবে, এ রাত আমাদের জন্য কি পয়গাম বহন করে এনেছে।

শবে বরাত

সাধারণত শবে বরাতকে মুসলমানদের একটি পর্ব বা খুশির দিন বলে মনে করা হয়। এর জন্য কিছু রসম রেওয়াজও গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলো বেশ কড়াকড়ির সাথে পালন করা হয়। ধুমধাম ও জাকজমকের বিচারেতো যেন মোহররমের পরপরই এর স্থান। কিন্তু সত্য কথা হলো, এটা অযথা একটি মনগড়া পর্ব। না কুরআন মজীদে এর কোনো ভিত্তি আছে না হাদীস শরীফে। না সাহাবায়ে কেরামের যুগের ইতিহাসে এর কোনো নাম নিশানা পাওয়া যায়। আর না প্রাথমিক কালের বুযর্গানে দ্বীনের কেউ এটাকে ইসলামের পর্ব বলেছেন।

* প্রকৃতপক্ষে ইসলাম রসম রেওয়াজ ও পালা পার্বণের দীন নয়। ইসলামতো একটি সাদাসিদা ও যুক্তিসঙ্গত দীন। এ দীন মানুষকে রসম রেওয়াজের বেড়াজাল থেকে, খেল তামাশার অর্থহীন কাজকর্মে মশগুল হওয়া থেকে বাজে কাজে সময়, শ্রম ও সম্পদ অপচয় থেকে রক্ষা করে জীবনকে বাস্তব সত্যের দিকে আকৃষ্ট করে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা ও কল্যাণের কাজে মানুষকে ব্যস্ত রাখে। এমন একটা দীনে প্রকৃতির সাথে এরূপ কাজের কোনো সামঞ্জস্য নেই যে, সে বছরে একদিন হালুয়া রুটি পাকানো ও আঁতশবাজী করার জন্য নির্দিষ্ট করে দেবে আর মানুষকে বলবে যে, তুমি বিশেষভাবে প্রতি বছর নিজের জীবনের কিছু মূল্যবান সময় ও নিজের কষ্টার্জিত ধনের বেশকিছু অংশ বরবাদ করতে থাকো। এর চেয়েও দূরতম কথা হলো এই যে, ইসলাম এমন কোনো রসম রেওয়াজ পালন করতে অভ্যস্ত করবে, যা শুধু সময় ও টাকা পয়সাই বরবাদ করে না, বরং কোনো কোনো সময় জীবননাশের ঘটনাও ঘটে এবং ঘরবাড়ী পর্যন্ত এই শিখা গিয়ে পৌঁছে। এ ধরনের বাজে কাজের নির্দেশ দেয়াতো দূরের কথা, যদি এমন ধরনের কোনো রেওয়াজ নবী করীম (স)-এর যামানায় বিদ্যমান থাকতো, তাহলে নিশ্চয়ই আইন প্রয়োগ করে তা বন্ধ করে দেয়া হতো। আর এ ধরনের যেসব রেওয়াজ সে সময় প্রচলিত ছিলো তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আরও বই ডাউনলোড করুন
ইসলামে সামাজিক সুবিচার - islame shamajik subicher pdf ডাউনলোড
মুক্তির পয়গাম Islami Book Free Download ডাউনলোড
আল কুরআনের অভিধান - মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মুমিন : al quraner ovidhan পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড

আপনাদের প্রশ্নের জবাব ১-৩ খন্ড পিডিএফ বই ডাউনলোড

আপনাদের প্রশ্নের জবাব ১-৩ খন্ড পিডিএফ বই ডাউনলোড

আপনাদের প্রশ্নের জবাব ১-৩ খন্ড - ডা: ইউসুফ লুধিয়ানাবী
apnader proshner jobab all part PDF version
আপনাদের প্রশ্নের জবাব ডাইউসুফ লুধিয়ানাবী
প্রকাশনী বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার
ভার্চুয়াল সাইজ ১৩ এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যা ১-৩ খন্ড
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতা বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

মুক্তির জন্য কি ঈমান শর্ত?

প্রশ্ন-২: আমরা শুনেছি, আল্লাহ তা'আলা পরিশেষে ঐ সমস্ত লোকদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নেবেন যাদের অন্তরে সরিষা পরিমাণ ঈমান থাকবে। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- আমি পছন্দ করিনা যে, মুশরিক ও তাওহীদবাদীরা একসাথে থাকবে। তাহলে বর্তমান ইহুদী এবং খৃস্টানদেরকেও কি জাহান্নাম থেকে বের করে নেয়া হবে? কারণ তারাও তো আল্লাহকে মানে। অবশ্য আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মানেনা। তাছাড়া ঈসা (আ) ও ওজাইর (আ)-কে আল্লাহর পুত্র বলে বিশ্বাস করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইহুদী ও খৃস্টানগণ কি সরিষা পরিমাণ ঈমানের অধিকারী বলে গণ্য হবে? নাকি হবে না?
উত্তর: চিরস্থায়ী মুক্তির জন্য ঈমান শর্ত। কারণ কুফর এবং শিরকের গুনাহ আল্লাহ মাফ করবেন না। ঈমান শুদ্ধ হওয়ার জন্য শুধু আল্লাহকে মানাই যথেষ্ট নয় বরং তাঁর সকল নবী রাসূলকে মানাও শর্ত। কাজেই যারা হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শেষ নবী মানবে না তারা মূলত আল্লাহর ওপরই ঈমান রাখেনা। কারণ আল্লাহ তা'আলা নিজেই তাঁকে নবী ও রাসূল হওয়ার ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন এবং তাঁকে খাতামুন নাবিয়‍্যীন আখ্যা দিয়েছেন। অতএব যে ব্যক্তি তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাতের ওপর ঈমান আনবে না এবং তাকে শেষ নবী বলে বিশ্বাস করবেনা তার ঈমানের দাবী মিথ্যা। কারণ যে আল্লাহর কথাকেই মিথ্যা মনে করে, আল্লাহর ওপর ঈমান আনার কথা তার সাজে না। কাজেই নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ঈমান আনা পরকালের মুক্তির অন্যতম শর্ত। অন্য কথায় অমুসলিমদের জন্য পরকালে মুক্তির কোনো গ্যারান্টি নেই।

প্রশ্ন-৩ঃ মুসলিমের সংজ্ঞা কী?

উত্তর: নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দীন নিয়ে এসেছেন তা পুরোপুরিভাবে যিনি মানেন তিনি মুসলিম। ইসলামের সেইসব বিষয় যা নির্দিষ্টভাবে দীনের অংশ সাব্যস্ত করা হয়েছে তার কোনোটিকে অস্বীকার করা বা অপব্যাখ্যা করা কুফর। যে এরূপ করবে সে কাফির।
প্রশ্ন-৪: কুরআন ও হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে সংক্ষেপে বলবেন, মুসলিম কাকে বলে? বিশেষভাবে অনুরোধ করছি, দলিল প্রমাণগুলো যেন আল কুরআন ও হাদীসে রাসূলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। অন্য কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই। তাহলে মানুষ সুযোগ পেয়ে বলবে, এ মত তো আমাদের মাযহাবের নয়। উত্তর: নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দীন নিয়ে এসেছেন তা কোনোরূপ পরিবর্তন পরিবর্ধন ছাড়া হুবহু গ্রহণ করার নাম ঈমান। কুফর হচ্ছে ঈমানের বিপরীত অর্থাৎ তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা না মানার নাম কুফর। আল কুরআনে অগণিত আয়াতে- مَا أُنْزِلَ إِلَى الرَّسُوْلِ "রাসূলের ওপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে" বলে যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তা মেনে নেয়াকে ঈমান এবং তা মেনে না নেয়াকে কুফর বলা হয়েছে। এমনিভাবে হাদীসে রাসূলেও এর অনেক অনেক প্রমাণ আছে। উদাহরণ স্বরূপ সহীহ্ মুসলিমের একটি হাদীস উল্লেখ করা যেতে পারে যেখানে বলা হয়েছে- 'আমি যা নিয়ে এসেছি তার ওপর যে ঈমান আনবে সত্যিকার অর্থে সেই আমার ওপর ঈমান আনলো।' (সহীহ মুসলিম, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৭)। এ হাদীস দিয়েই মুসলিম এবং কাফিরের প্রমাণ পাওয়া যায়। অর্থাৎ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা যিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করবেন এবং মেনে নেবেন তিনি মুসলিম। আর যে একটি কথাকেও বিশ্বাসের অযোগ্য মনে করে সে কাফির।

আরও বই ডাউনলোড করুন
সীরাত বিশ্বকোষ ১-১২ খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড
কুরআন হাদীসের আলোকে মরণ ব্যাধি দূর্নীতি pdf ডাউনলোড
ইসলাম মানবতার ধর্ম bangla book pdf ডাউনলোড

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা'আলা রাসূলে আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে 'খাতামুন নাবিয়ি‍্যন' বলেছেন। অনেক হাদীসে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তিনি শেষ নবী, তার পরে আর কোনো নবী আসবেন না। সমস্ত উম্মাতে মুসলিমা (যদিও তারা বিভিন্ন মাযহাবে বিভক্ত) এ ব্যাপারে একমত, তিনি শেষ নবী। কিন্তু মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সে আকীদা অস্বীকার করে নিজেই নবী দাবী করে বসেছে। এই কারণেই কাদিয়ানীরা অমুসলিম বা কাফির। তদ্রূপ আল কুরআন ও হাদীসে রাসূলে বলা হয়েছে, ঈসা (আ)-কে শেষ জামানায় পৃথিবীতে পাঠানো হবে। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এবং তার অনুসারীরা এটিকে অপব্যাখ্যা করেছে। তাদের দাবী হচ্ছে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীই সেই ঈসা যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। তাদের অমুসলিম হবার এটিও একটি কারণ। তো কিয়ামাত পর্যন্ত নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনু পরকালের মুক্তির শর্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অথচ কাদিয়ানীদের মির্যা গোলাম আহমদের ওহী অনুসারে চলাই পরকালের মুক্তির শর্ত। কাদিয়ানীরা ইসলামের অসংখ্য অকাট্য দলিলকে অস্বীকার করে। তাই সারা পৃথিবীতে সমস্ত উলামায়ে কিরাম তাদেরকে কাফির মনে করেন।

কাফির ও মুশরিকের মধ্যে পার্থক্য

প্রশ্ন-১৪৪ কাফির ও মুশরিকের মধ্যে পার্থক্য কী? কাফির মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা, তাদের দেয়া খাদ্য খাওয়া এবং তাদের সালামের জবাব দেয়া জায়েয কিনা?
উত্তর: নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিয়ে আসা দীনের কোনো কথাকে যদি কেউ অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির। আর যে আল্লাহর সত্তায় কিংবা গুণাবলীতে অন্য কাউকে সেরূপ মনে করে তাকে মুশরিক বলে। কাফিরের সাথে বন্ধুত্ব করা নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রয়োজনে তার সাথে খাওয়া দাওয়া করা যেতে পারে। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দস্তরখানে কাফিরও খানা খেয়েছে। তবে কাফিরকে সালাম দেয়া যাবে না। যদি সে সালাম দেয় তবে জবাবে শুধু 'ওয়া "আলাইকুম" বলতে হবে।

শিরক ও বিদ'আত

প্রশ্ন-১৫ ৪ শিরক ও বিদ'আত কী? উদাহরণসহ বর্ণনা করবেন।
উত্তর : আল্লাহ তা'আলার সত্তা ও গুণাবলীর মতো অন্য কাউকে মনে করা বা সেসব গুণাবলীর সাথে অন্য কাউকে শরীক করার নাম শিক। আর যে কাজ নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবা কিরাম কিংবা তাবিঈগণ করেননি অথচ দীনের মাঝে তা প্রচলন করা হয়েছে এবং তা সম্পাদন করাকে ইবাদত মনে করা হয়, এরূপ কাজকে বিদ'আত বলে। এ মূলনীতির ত উদাহরণ আপনি নিজেই বের করে নিতে পারবেন।